
উম্মে মাবাদের খালাতো বোন হিন্দের বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন। তিনি বলেন:
“একদিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার তাঁবুতে বিশ্রাম নিয়েছিলেন। ঘুম থেকে জেগে তিনি পানি চাইলেন। এরপর ওজুর মতো করে হাত ধুয়ে কুলি করলেন এবং সেই পানি তাঁবুর পাশের একটি শুকনো গাছের গোড়ায় ঢেলে দিলেন।
পরদিন সকালে আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলাম, সেখানে একটি সবুজ-শ্যামল, সতেজ গাছ জন্মেছে। গাছটি নানা ফলভারে নুয়ে পড়েছে এবং সেখান থেকে অপূর্ব সুগন্ধ ছড়াচ্ছে। এর ফল ছিল মধুর চেয়েও অধিক মিষ্টি। ক্ষুধার্ত কেউ তা খেলে তার ক্ষুধা মিটে যেত, তৃষ্ণার্ত ব্যক্তি খেলে তৃষ্ণা দূর হয়ে যেত, আর অসুস্থ কেউ খেলে আল্লাহর ইচ্ছায় সুস্থ হয়ে উঠত। এমনকি বন্ধ্যা নারী যদি এর পাতা খেতেন, তবে সন্তান লাভ করতেন।
আমরা সেই গাছের নাম দিয়েছিলাম ‘মুবারাকা’। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ তাদের রোগীদের নিয়ে আসত। তারা সেই গাছের ফল খেয়ে সুস্থ হয়ে ফিরে যেত।
একদিন হঠাৎ দেখি, গাছটির সব পাতা ঝরে মাটিতে পড়ে গেছে। আমরা অত্যন্ত দুঃখ পেলাম। কিছুক্ষণ পরই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইন্তেকালের সংবাদ পৌঁছাল।
এর প্রায় ত্রিশ বছর পরে আমরা দেখলাম, গাছটির কাণ্ড থেকে ডালপালা পর্যন্ত কাঁটায় ভরে গেছে এবং সব ফল ঝরে পড়েছে। সেদিনই আলী ইবনে আবি তালিব-এর শাহাদাতের সংবাদ পেলাম।
এরপর আর কখনো সেই গাছে ফল ধরেনি। তবে আমরা এর পাতা থেকে কিছু উপকার পেতাম। একদিন সকালে উঠে দেখি, গাছটির কাণ্ড থেকে রক্তের মতো তরল বের হচ্ছে এবং এর সব পাতা বিবর্ণ হয়ে গেছে। আমরা গভীর শোকাহত হলাম। কিছুক্ষণ পরই হুসাইন ইবনে আলী-এর শাহাদাতের সংবাদ এল।
এরপর সেই গাছ সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেল এবং অবশেষে ভেঙে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।”
যমাখশারী রহঃ বলেন: এত আশ্চর্য একটি ঘটনা হওয়া সত্ত্বেও এটি কেন উম্মে মাবাদের বিখ্যাত ছাগলের ঘটনার মতো সর্বজনবিদিত হয়ে ওঠেনি।
[ঘটনাটি আল্লামা জামাখশারীর রবিউল আবরার ওয়া নুসুসুল আখইয়ার গ্রন্থ থেকে সংকলিত।]
