আল কুরআন
‘আপনি বলুন। পার্থিব ভোগ সামান্য। আর যে তাকওয়া অবলম্বন করে, তার জন্য আখিরাতই উত্তম।’ (সূরা নিসা: ৭৭)
”নিশ্চয়ই যারা আমার সাথে দেখা করার আশা রাখে না, যারা পার্থিব জীবনেই সন্তুষ্ট আর এতেই পরিতৃপ্ত হয়ে আছে এবং যারা আমার নিদর্শনাবলী নিয়ে উদাসীন- ওদেরই আবাস দোজখ, ওদের কৃতকর্মের জন্যে। (সূরা ইউনুস : ৭-৮)
“পার্থিব জীবনের দৃষ্টান্ত তো এমন, যেভাবে আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করি, যা দিয়ে ভূমিজ উদ্ভিদ ঘন হয়ে উৎপন্ন হয়- মানুষ আর জীবজন্তু যা থেকে খেয়ে থাকে। এরপর ভূমি যখন তার শোভা ধারণ করে, নয়নাভিরাম হয় আর এর অধিকারীরা মনে করে সেটা তাদের আয়ত্তাধীন, তখন দিনে বা রাতে আমার নির্দেশ এসে পড়ে আর আমি এটা এমনভাবে নির্মূল করে দেই, যেন গতকালও এর অস্তিত্ব ছিল না। চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে এভাবেই আমি নিদর্শনগুলো বিস্তারিতভাবে বিবৃত করি।” (সূরা ইউনুস : ২৪)
“তোমরা জেনে রাখ, পার্থিব জীবন খেল-তামাশা, সাজ-সজ্জা, পারস্পরিক অহমিকা এবং ধন আর সন্তান-সন্ততি প্রাচুর্য ছাড়া আর কিছু নয়, যেমন এক বৃষ্টির অবস্থা, যার সবুজ ফসল কৃষকদেরকে অভিভূত করে, এরপর তা শুকিয়ে যায়, তাই আপনি তাকে হলুদ রঙের দেখতে পান, এরপর তা খড়কুটা হয়ে যায়। আর পরকালে আছে কঠিন শাস্তি এবং আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। পার্থিব জীবন তো প্রতারণার উপকরণ বৈ কিছু নয়।” (সূরা হাদিদ: ২০)
‘আর কখনও সেসবের প্রতি আপনার দুচোখকে প্রসারিত করবেন না, যা আমি তাদের বিভিন্ন শ্রেণিকে পার্থিব জীবনের সৌন্দর্যস্বরূপ উপভোগের উপকরণ হিসেবে দিয়েছি- এগুলো দিয়ে তাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য। আপনার প্রতিপালকের দেয়া রিযকই সর্বোত্তম, বেশি স্থায়ী।’ (সূরা তাহা: ১৩১)
আল-হাদিস
‘হে আল্লাহ! আখিরাতে জীবনই তো প্রকৃত জীবন। আপনি আনসার ও মুহাজিরদের ক্ষমা করুন।’ (বুখারি)
‘আল্লাহ্ তা’আলার যিকির ও তার সাথে সংগতিপূর্ণ অন্যান্য আমল, আলিম ও ইলম অন্বেষণকারী ছাড়া দুনিয়া ও তার মাঝের সব কিছুই অভিশপ্ত।’ (তিরমিযি)
দুনিয়া আখিরাতের তুলনায় এতটুকু, যেমন তোমাদের কেউ সমুদ্রের পানিতে তার একটি আঙুল ডুবিয়ে তুলে আনল। সে দেখুক তার আঙুল কতটুকু পানি নিয়ে ফিরেছে। (মুসলিম)
দুনিয়া (পার্থিব জীবন) মু’মিনদের জন্য কারাগারস্বরূপ এবং কাফিরদের জন্য জান্নাতস্বরূপ। (তিরমিযি)
তোমরা (অযাচিত) পার্থিব সম্পদ গ্রহণ করো না। এগুলোর জন্য তোমরা তাহলে দুনিয়ার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়বে। (তিরমিযি)
‘পৃথিবীতে এমনভাবে দিনযাপন কর, যেন তুমি একজন প্রবাসী অথবা পথচারী মুসাফির। তুমি নিজেকে কবরবাসীদের অন্তর্ভূক্ত মনে কর।’ (তিরমিযি)
‘মানুষ বলে, আমার মাল, আমার সম্পদ। কিন্তু তুমি দান করে যা (আল্লাহ্ তা’আলার কাছে) জমা রেখেছ, খেয়ে যা শেষ করেছ এবং পরে পরে যে (জামা-কাপড়) পুরোনো করেছ, সেগুলো ছাড়া তোমার সম্পদ বলতে আর কিছু নেই। (তিরমিযি)
‘হালাল বস্তুকে হারাম বানানো এবং ধনসম্পদ ধ্বংস করা দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি (যুহদ) নয়। যুহদ হলো আল্লাহর কাছে যা আছে তার চেয়ে তোমার কাছে যা আছে, তার উপর অধিক নির্ভরশীল না হওয়া এবং তুমি কোন বিপদে পড়লে তার বিনিময়ে সওয়াবের আশার তুলনায় বিপদে না পড়াটা তোমার কাছে বেশি কাক্সিক্ষত না হওয়া।’ (ইবন মাজাহ)
‘তুমি দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি অবলম্বন করো। তাহলে আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসবেন। মানুষের কাছে যা আছে, তুমি তার প্রতি অনাসক্ত হয়ে যাও, তাহলে তারাও তোমাকে ভালোবাসবে।’ (ইবন মাজাহ)
‘যখন তোমরা এমন কাউকে দেখবে, যাকে দুনিয়াতে যুহদ দেয়া হয়েছে এবং স্বল্পভাষী করা হয়েছে, তোমরা তার নৈকট্য ও সাহচর্য অবলম্বন করবে। কারণ তাকে প্রজ্ঞা দেয়া হয়েছে।’ (ইবন মাজাহ)
